টুইটার মার্কেটিং কি ? কিভাবে Twitter Marketing করবেন ?

টুইটার মার্কেটিং

টুইটার মার্কেটিং শব্দটির সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। দেশি কিংবা বিদেশি, সেলিব্রেটি কিংবা রাজনীতি সকল প্রকার খবর অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনায় টুইটারে সবার আগে পাওয়া যায়। যার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ টুইটারকে পছন্দ করে। টুইটারের এত জনপ্রিয়তার কারনে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন টুইটার মার্কেটিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। টুইটার মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে নতুন গ্রাহকদের কাছে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য খুব সহজেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের অনলাইন পরিচিতিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

টুইটার মার্কেটিং কি ?

টুইটার মার্কেটিং বলতে বোঝায় যে টুইটার ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, প্রোডাক্ট, বা সার্ভিস, টুইটার ব্যবহারকারীদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া। টুইটারের মাধ্যমে মার্কেটিং করে সম্ভাব্য কাস্টমারদের নিকট প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা তুলে ধরা হয়। এতে করে ব্যবসায়িক প্রচার প্রচারনা বাড়ার পাশাপাশি টার্গেট করা কাস্টমারদের সাথে ভালো সম্পক তৈরি হয়। টুইটার মার্কেটিং এ বিভিন্ন ধরনের ছবি, অডিও, ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করে কাস্টমারদেরকে পণ্য বা সেবা গ্রহনের জন্য ইনফ্লুয়েন্স করা হয়। এটি অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর  তুলনায় খরচ এবং সময় কম লাগায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

নতুনদের জন্য টুইটার মার্কেটিং টিপস

টুইটার মার্কেটিং করার জন্য প্রথমে আপনাকে টুইটার একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে টুইট করে টার্গেটেট মানুষদের দেখাতে পারেন। তবে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন। যেমন, পণ্যে বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার বৃদ্ধি করতে নির্দিষ্ট হ্যাশ # ট্যাগ ব্যবহার করা, কাস্টমারদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, অনলাইনে বেশী বেশী একটিভ থাকা ইত্যাদি। তাছাড়া Twitter মার্কেটিংয়ের জন্য অনেকগুলো কার্যকরী টিপস রয়েছে যেমন:

নতুনদের জন্য টুইটার মার্কেটিং

১। টুইটারে যখন আপনি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জন্য প্রোফাইল তৈরি করবেন তখন সেটিকে প্রফেশনালভাবে কাস্টমাইজ করতে হবে। যেমন সেখানে একটি লোগো, কভার পিকচার, প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কিত তথ্য, ওয়েবসাইট ইত্যাদি যুক্ত করে দিতে হবে। 

২। টুইটারে কোনো পোস্ট করা হলে তাকে টুইট করা বলে, টুইট করার সময় খেয়াল রাখতে হবে কখন টুইটারের বেশি ইউজার একটিভ থাকে এবং এরকম সময়ে টুইট করতে হবে ।

৩। টুইটারে যেকোনো একটি স্বাভাবিক টুইটের চাইতে সঠিকভাবে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে  পোস্ট করলে বেশি এঙ্গেজমেন্ট পাওয়া যায়। এজন্য প্রতিটি টুইট করার সময় সঠিকভাবে হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করলে খুব সহজেই আপনার পোস্ট খুজে পাওয়া যাবে।

৪। পোস্ট করার সময় টুইটারের সার্চ অপশনটি ব্যবহার করে যে বিষয়টি নিয়ে আপনি টুইট করতে চাচ্ছেন সে সম্পর্কে একটি হালকা রিসার্চ করে নিবেন। কারণ  আপনি যদি কোনো কিছু পোস্ট করার আগে জানেন যে  মানুষ কি বিষয় নিয়ে আগ্রহী তাহলে আপনি আপনার Twitter মার্কেটিংয়ের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। 

৫। টুইটারে টুইট করার সময় চেষ্টা করবেন ছবি যুক্ত করতে।  সাধারণ ছবিযুক্ত টুইটগুলো বেশি লাইক ও শেয়ার হয়। ভালো মানের ছবি আপনার মার্কেটিং আর কাজে ব্যাপক সাহায্য করবে, বলা হয় যে একটি ভালো ছবি ১০০০ শব্দের থেকে উত্তম। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন ভালো ছবি ব্যবহার করতে।

৬। টুইটার মার্কেটিংয়ে সফলতার জন্য ফলোয়ার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এজন্য নিয়মিত ভালো কনটেন্ট তৈরি করে ফলোয়ার বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। আপনি যখন ফলোয়ারদের কথা চিন্তা করে ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি করবেন তখন আপনার পোস্টে মানুষের ইন্টারেকশন হবে এবং ফলোয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। 

টুইটার মার্কেটিং কেনো করবেন ?

বর্তমান সাময়ে অনলাইন দুনিয়ায় মার্কেটিং করার কোন বিকল্প নেই। এসময় মার্কেটিং করে বহু নামিদামি কোম্পানি গুলো তাদের প্রোডাক্টের প্রচার-প্রচারণা করছে। তাছাড়া অন্যান্য মার্কেটিং এর তুলনায় টুইটার মার্কেটিং  এ খরচ অনেক কম হয় বিধায় বিশ্বের নামি দামি কোম্পানিগুলো তাদের প্রচারে Twitter মার্কেটিং কে বেছে নিয়েছে। এছাড়াও Twitter মার্কেটিং করার বিভিন্ন সুবিধা আছে যেমন-

টুইটার মার্কেটিং কি
টুইটার মার্কেটিং

বিশাল সামাজিক নেটওয়ার্কিং: টুইটার একটি বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া সাইট যেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যবহারকারী আছেন। ফলে টুইটার ব্যবহার করে একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার প্রচারে টার্গেটেট দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করা সম্ভব।

ব্র্যান্ড প্রমোশন করতে: টুইটার মার্কেটিং দ্বারা আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোশন করতে পারেন। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার মার্কেটিং এ টুইটারে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ক্রেতাদের সাথে ভালো সংযোগ স্থাপন থেকে শরু করে কেনা, বেচা সব কিছুই টুইটারে করা সম্ভব। এতে করে অল্প সময়ের মাঝেই আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভালো পরিচিতি লাভ করবে।

ব্যবহারকারীদের সাথে সম্পর্ক গড়তে: Twitter মার্কেটিং দ্বারা আপনি আপনার টার্গেটেট অডিয়েন্সদের সাথে সম্পর্ক গড়তে পারেন। টুইটারে আপনার প্রতিষ্ঠানের নতুন পণ্য বা সেবা সম্পর্কে পোস্ট করে নির্দিস্ট অডিয়েন্সদের জানাতে পারেন, তাদের করা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। তাছাড়া তাদের কাছ থেকে আপনার পণ্য বা সেবা সম্পকে মতামত নিতে পারেন।

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং: টুইটারে বড় বড় ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে সম্পর্ক করে আপনি আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার-প্রসার বৃদ্ধি করতে পারেন। তাছাড়া অনান্য সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনায় টুইটারের পরিধি অনেক বড় হওয়ায় পণ্যে বা সেবার মার্কেটিং এ টুইটারে অনেক দ্রুত কাজ করে।

কিভাবে টুইটারে ফলোয়ার বাড়াবেন ?

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলোর মত বর্তমান সময়ে টুইটার অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। অর্গানিকভাবে টুইটার মার্কেটিং করার জন্য টুইটারে ফলোয়ার সংখ্যা বেশি থাকা খুব জরুরী। টুইটার একাউন্টে ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রকার অর্গানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোন ভাবেই  কৃত্রিম ফলোয়ার নেওয়া যাবে না। আর্টিফিশিয়াল ফলোয়ার আপনার মার্কেটিংয়ের কোন কাজে আসবে না। তাছাড়া পণ্যে বা সেবার গুণগত মানের উপর ভিত্তি করে এমনিতেই  আপনার টুইটারের ফলোয়ার বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া অন্যান্য ইনফ্লুয়েন্সারদের ফলো করলে তারা আপনাকে একইভাবে ফলো ব্যাক করবে।

সফলভাবে টুইটার মার্কেটিং করার উপায়

ফেসবুক মার্কেটিং এর মত  টুইটার মার্কেটিং এর সফল হতে হলে কতগুলো নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হবে, তাহলে আপনি সফল হবে Twitter Marketing করতে পারবেন।  সেটা আপনার মধ্যে প্রথম ধাপটি হলো আপনি কি জাতীয় প্রোডাক্ট মার্কেটিং করছেন  তার নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করা।  তারা যদি টুইটার ব্যবহার করে থাকে তাহলে আপনি Twitter মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। অন্যথায় Twitter Marketing করে আপনি সফল হতে পারবেন না। এরপর টুইটারে আপনার পণ্য বা সেবার বিবরণ তুলে ধরে বিভিন্ন ধরনের টুইট করতে হবে সাথে হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।

টুইটার মার্কেটিং টিপস

টুইটারে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে তা শেয়ার করলে অতি দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। তাছাড়া টুইটারারের বিভিন্ন ধরনের ট্রেন্ড ফলো করে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন করতে পারেন। এটি আপনার Twitter মার্কেটিং এর সফলতার হার বৃদ্ধি করবে।

শেষ কথা

বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের জন্য ব্যবসা বাণিজ্য, কেনাকাটা, ও বিভিন্ন সেবা ও অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গেছে। অনলাইনে বিক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রেতার সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে টুইটার মার্কেটিংয়ের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য এবং সেবা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য Twitter Marketing করে থাকে। Twitter মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো তাদের পন্যের প্রচার এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের অনলাইন সক্ষমতা ধরে রাখে । সুতরাং আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং করে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আপনি Twitter মার্কেটিং দিয়ে শুরু করতে পারেন, বর্তমান সময়ে ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে Twitter Marketing এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট (ছবি, লেখা ইত্যাদি) অন্য কোথাও কপি করে বা পরিবর্তন করে পাবলিশ করার আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কেউ এমন অপরাধমূলক কাজ করেন তাহলে DMCA পাঠানো সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।



Leave a Reply